Header Image

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন না যারা

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন না যারা

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে যেসব মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হচ্ছে, তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন না। অনেক এমপি এলাকার সঙ্গে সম্পর্কহীন, নানা কারণে বিতর্কিত, জনবিচ্ছিন্ন, দলীয় নেতা-কর্মীদের মামলা-হামলা করে বিপর্যস্ত করেছেন।
পাশাপাশি তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দলের ভিতর দল-উপদল সৃষ্টি করেছেন, আত্মীয়-স্বজনদের লাগামহীন আচরণ ও দুর্নীতি প্রশ্রয় দিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন। আগামী নির্বাচনে ওইসব এমপি-মন্ত্রীর কপাল পুড়বে। আওয়ামী লীগে এখন ব্যস্ততা প্রার্থী যাচাই-বাছাই ও মাঠ জরিপে।
অন্যদিকে উজ্জ্বল ভাবমূর্তি, জনপ্রিয়তা, দলের প্রতি ত্যাগ, নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকাসহ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার মতো মুখ খোঁজ করছেন দলের হাইকমান্ড। এখন পর্যন্ত কোনো আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ব্যাপারে যা কিছু হচ্ছে সবই অপপ্রচার। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত কোনো এমপিকে বাদ দেয়নি, আবার কাউকে চূড়ান্তও করেনি। এমপি মনোনয়ন নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও অনলাইনে যেসব খবর ছাপা হচ্ছে তা সত্য নয়।
তিনি বলেন, প্রত্যেকটা আসনে জরিপ চলছে। সেগুলো সংসদীয় বোর্ডের সদস্যদের কাছে জমা হচ্ছে। কোন কোন আসন থেকে কারা কারা আগ্রহী, বর্তমানে কে আছেন, বিএনপিসহ অন্য দলের প্রার্থীদের কি অবস্থা সেগুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আমরা তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করি। তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা না থাকলে দলের মনোনয়ন নয়।’
দলীয় সূত্রমতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য বিরোধীপক্ষের সঙ্গে যেন লড়াই করে জিতে আসতে পারেন, এমন প্রার্থী মনোনয়ন দিতে চান তিনি। এ জন্য ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ ব্যাপারে বিভিন্ন সংস্থাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া জরিপগুলো সঠিক কিনা তাও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় বর্তমান এমপিদের ভালো কাজ আর মন্দ কাজের তালিকা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই এলাকার অবস্থা, অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, এলাকায় তাদের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দিকগুলো দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে অন্যদলের শক্তিশালী প্রার্থী ও দলের অবস্থার খবর রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। সবদিক বিবেচনায় নিয়েই তিনি প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন। আগামী বছরের মাঝামাঝিতে প্রার্থীদের তিনি সবুজ সংকেত দিতে পারেন। প্রার্থীদের ডেকে জানিয়ে দেওয়া হবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, আর কাকে দেওয়া হবে না। তবে বিতর্কিত-জনবিচ্ছিন্ন কাউকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হবে না।
সূত্রমতে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনাভোটে এমপি নির্বাচিত হয়ে অনেক এমপি নির্বাচনী এলাকায় পা দেননি। আবার কারও স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, ভাই, ভাগ্নে, শ্যালক, শ্বশুরকে দিয়ে এলাকায় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। এসব আত্মীয়-স্বজন টিআর, কাবিখা, কাবিটা ভাগ বাটোয়ারাসহ টেন্ডারবাজি, হাটবাজার, বালুমহল ইজারা, দখলসহ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। আবার উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পদে বসিয়েছেন ভিন্ন দল থেকে আসা বিতর্কিতদের, আত্মীয়-স্বজনদের।
যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বঞ্চিত করা হয়েছে ত্যাগী ও পুরনো পরীক্ষিত-কর্মীদের। আবার এমপিদের স্বজনদের কেউ কেউ এত বেশি বাড়াবাড়ি করেন যা ইতিমধ্যে দলের হাইকমান্ডে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। কিছু এমপির বিরুদ্ধে টিআর কাবিখা, কাবিটার পুরো অর্থ লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে ‘এমপি লীগ’ গঠন করেছেন কেউ কেউ। নিজস্ব বলয় ভারী করতে দলের মধ্যে গ্রুপিং, কোন্দল-উপকোন্দল সৃষ্টি করার অভিযোগ আছে অনেকের বিরুদ্ধে। কিছু এমপির বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। তারা টাকার বিনিময়ে দলের ত্যাগী, জনপ্রিয় ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে হাইব্রিড, বিএনপি-জামায়াতের লোকদের মনোনয়ন দিয়েছেন। দলের হাইকমান্ডের অনুসন্ধানে এসবের সত্যতা মিলেছে এমন মন্ত্রী এমপি আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন না।
দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের একাধিক সদস্য জানান, গত বছর দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের পর সাংগঠনিক সম্পাদকরা জেলায় জেলায় সফর করছেন। এ সময় স্থানীয় জনগণ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বর্তমান এমপিদের অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমান এমপিদের পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান সম্পর্কেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। তারা দলীয় সভানেত্রীর কাছে সে তথ্য জমা দিয়েছেন।
সম্প্রতি যুবলীগের এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। ৩০০ আসনে মনোনয়ন দিতে হবে। বিভিন্ন সংস্থার জরিপে যারা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন না, উইনেবল ক্যান্ডিডেট হবেন না, তারা মনোনয়ন পাবেন না। যারা উইনেবল ক্যান্ডিডেট হবেন তারা মনোনয়ন পাবেন। ’
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত তিনি কোনো আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেননি। জনবিচ্ছিন্ন কাউকে আগামীতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হবে না।’ 
Share:

No comments:

Post a Comment

আপনি সড়গাছীর সকল কিছু মেনে নিয়েছেন।

সাধারণ কিছু কথা।

সড়গাছী গ্রাম সম্পর্কে যদি কোন মতবাদ/অভিমত থাকে তাহলে ডান পাশে Contact Us এর নিচে আপনার মূল্যবান মতবাদ/অভিমত প্রকাশ করুন।

সড়গাছী গ্রামের পক্ষথেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

Contact Us

Name

Email *

Message *

রক্তের প্রয়োজনে।