সিটিতেই অগ্নিপরীক্ষা আ.লীগ-বিএনপির
আগামী শীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর এই শীতেই শুরু হতে যাচ্ছে ছয় সিটি করপোরেশন নির্বাচন। স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিটি নির্বাচনে হবে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য অগ্নিপরীক্ষা।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের বিপরীতে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। তাদের জন্য ড্রেস রিহার্সাল, মূল লড়াইয়ের আগে পূর্ণাঙ্গ মহড়া। আগামী ২১ ডিসেম্বর রংপুর সিটি দিয়েই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের যাত্রা হচ্ছে। এরপর পর্যায়ক্রমে সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও গাজীপুর সিটির ভোট হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে ছয় সিটিতে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের শেষ অগ্নিপরীক্ষা হবে আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে সিটি নির্বাচনে জিততে মরিয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপি। প্রস্তুত দুই দলই। চলছে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ। নগরীতেও ঝুলছে রংবেরঙের পোস্টার। মেয়র পদে দলীয় প্রতীক পেতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের শুরু হয়েছে কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ। নগর পিতার চেয়ারগুলো পুনরুদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টায় আওয়ামী লীগ। আর জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় বিএনপি।
রংপুরে নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারিত হলেও এখনো তফসিল ঘোষণা হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই এই সিটিতে সম্ভাব্য সব প্রার্থীর ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, বিলবোর্ডসহ নির্বাচনী প্রচারসামগ্রী নামিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। শুক্রবার সকাল থেকে দিনভর ভ্রাম্যমাণ আদালত সিটিজুড়ে অভিযান চালিয়ে এসব প্রচারসামগ্রী নামিয়ে ফেলে। তবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা গণসংযোগ চালিয়েছেন।
স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, রংপুর সিটিতে অপেক্ষাকৃত স্বস্তিতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এই সিটিতে আওয়ামী লীগকে খুব একটা বেগ পেতে হবে না। তবে অন্য আসনগুলোয় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে।
জানা যায়, আগামী বছরের মার্চ থেকে মধ্য অক্টোবরের মধ্যে ওই পাঁচ সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিধিমালা অনুযায়ী মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। আর মেয়াদ হচ্ছে সিটির প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর।
সে অনুসারে রাজশাহী সিটিতে আগামী বছরের ৯ এপ্রিল থেকে ৫ অক্টোবর, খুলনায় ৩০ মার্চ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর, বরিশালে ২৭ এপ্রিল থেকে ২৩ অক্টোবর, সিলেটে ১৩ মার্চ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর এবং গাজীপুরে ৮ মার্চ থেকে ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ছয় সিটি নির্বাচন আওয়ামী লীগ-বিএনপির জন্য অগ্নিপরীক্ষা। এই নির্বাচনের জয়-পরাজয়ের একটি প্রভাব পড়বে জাতীয় নির্বাচনে। আর নির্বাচন সুষ্ঠু হলো কিনা তার ‘অগ্নিপরীক্ষা’ হবে নতুন নির্বাচন কমিশনের। কার্যত নির্বাচনী যুদ্ধ হবে নৌকা আর ধানের শীষের মধ্যে। রেফারি থাকবে ইসি। তাই তিন পক্ষের সামনেই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আগামী নির্বাচনগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নতুন নির্বাচন কমিশনের জন্যও চ্যালেঞ্জ। তবে নিকট অতীতে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠু হয়েছে। এর আগে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো ছিল বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ। আমরা আশা করি, নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে আসন্ন সব সিটিসহ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। ’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য দল প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। জনগণের কাছে যারা অধিক গ্রহণযোগ্য তারাই মনোনয়ন পাবেন। আমরা খোঁজ নিচ্ছি কারা মাঠে আছেন, কার জনপ্রিয়তা কতটুকু।’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। অতীতেও স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, আগামীতেও অংশ নেবে। বিএনপির মতো একটি জনপ্রিয় দলে একাধিক প্রার্থীও আছে। তবে জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতার মাপকাঠিতে এগিয়ে থাকা নেতারাই দলীয় প্রতীক পাবেন। কিন্তু সরকার ও ইসি অতীতেও নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে কিনা সন্দেহ। ’
সূত্র- বাংলাদেশ প্রতিদিন

No comments:
Post a Comment