রাজশাহীতে মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে হামলায় আ.লীগ নেতা জখম
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে বাগমারার এক আওয়ামী লীগ নেতা হামলায় আহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে হামলার শিকার সুজন সরকার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দলীয় কোন্দলের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
আহত সুজন সরকার বাগমারা উপজেলার ১৩ নং গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পুর্ব সহিংসতা মামলায় হাজিরা দিতে তিনি রাজশাহীর আদালতে গিয়েছিলেন।
গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা রাজু মোল্লা বলেন, গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের নির্বাচন পুর্ব সহিংসতার তিনটি মামলার দিন ছিল রোববার। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে রামরামার প্রেমতলীতে একটি মারপিটের মামলায় সুজন সরকার হাজিরা দিতে গিয়েছিল। সুজনসহ ৮ জন একটি সিএনজি ভাড়া নিয়ে বাগমারা থেকে আদালতে যান।
আদালতে হাজিরা দিয়ে তারা সবাই ওই সিএনজিতে ফিরছিলেন। এসময় নগরীর রাজপাড়া তানার লক্ষ্মীপুর এলাকায় ১০/১২ জন তাদের সিএনসির গতিরোধ করে। এসময় তারা সিএনজি থেকে সুজন সরকারকে নামিয়ে পিটিয়ে জখম করে রাস্তার উপর ফেলে রেখে চলে যায়। পরে তার সঙ্গে থাকা অন্যরা সুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় বলে জানান রাজু মোল্লা।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রাজপাড়ার থানার ওসি হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, তার এলাকায় এ ধরণের সন্ত্রাসী হামলার কোন ঘটনার খবর তারা পাননি। এ নিয়ে থানায় কোন অভিযোগও করা হয়নি বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, গত ইউপি নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে প্রেমতলী মোড়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুস সালামের সমর্থক আলেপ আলীকে মারপিট করে বর্তমান চেয়ারম্যান আলমগীর সরকারের লোকজন। ওই মামলায় আসামী হন আলমগীর সরকারের সমর্থক সুজন সরকার। তবে নির্বাচনের সময় সুজন চেয়ারম্যান আলমগীর সরকারের পক্ষে থাকলেও নির্বাচনের পরে তাদের মধ্যে বিরোধ বাধে। সে বিরোধের জের ধরে কয়েক মাস আগে সুজন আলমগীর সরকারের গ্রুপ ছেড়ে দিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ তৈরী করে। যাতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখেন সুজন সরকার। এর জের ধরে সুজনের উপর হামলা হতে পারে বলে ধারণা স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।
গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ওই মামলার আসামী সবাই ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের সমর্থক। তাদের সঙ্গে সুজন সরকার আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছেন। তার সঙ্গে ৮ জন থাকলেও হামলার সময় কেউ এগিয়ে আসেনি। তবে কেন বা কারা এ হামলা চালিয়েছে তা এখনো বোঝা যায়নি বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর সরকারকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

No comments:
Post a Comment