Header Image

চাষ ছাড়াই হবে ব্রি ধান-৭১

চাষ ছাড়াই হবে ব্রি ধান-৭১

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বাধীনতার পর থেকে দেশের যতগুলো ক্ষেত্র আছে এরমধ্যে সবচেয়ে বেশী সফলতা এনেছে কৃষি ক্ষেত্র। কৃষক, কৃষিবিদ ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বর্তমানে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। প্রতিনিয়ত দেশে কৃষি ক্ষেত্র কমতে থাকলেও কৃষিবিদদের উদ্ভাবনী আবিস্কার ও কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগান দেয়া সম্ভব হচ্ছে, যা বলার অপেক্ষা রাখে না।
কয়েকবছর থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ধকলে কৃষি ক্ষেত্র অনেকটায় এলোমেলো। একদিকে বর্ধিষ্ণু জনসংখ্যা অন্যদিকে জলবায়ু পরির্তনের প্রভাব সত্বেও দেশের কৃষি বিজ্ঞানীরা খাদ্য চাহিদা মেটাতে একের পর এক ব্রি ধান আবিস্কার করে চলেছেন।
রাজশাহীতে এই প্রথম ব্রি ধান৭১’র আত্মপ্রকাশ। সাথী ফসলের সাথে চাষ না করেই যে ধানের বোপন। পরিবেশ পরিস্থিতির সাথে খাপখাওয়ানোতে এ ধান কৃষি ক্ষেত্রে আশার সঞ্চার করেছে। ব্রি ধান ৩৯ ও ব্রি ধান৭১ জাতের ধান চাষ ছাড়াই পাট কর্তনের আগে জমিতে বপন করা যায়। চাষ ও শ্রমিক খরচ তেমন না থাকায় প্রথমেই কৃষকরা অন্তত: বিঘা প্রতি তিন হাজার টাকা কম খরচ হয়। আবার প্রচলিত অন্যান্য ধানের চেয়ে আবাদ প্রায় ১০ দিন আগে কাটা যায়। ফলে রবি ফসলে বেশী সময় ও আগাম আবাদ করা যায়। আবার ফলনও ভাল পাওয়া যায়। জলবায়ু পরিবর্তনে ও খরা সহিষ্ণু এ ধানচাষে কৃষকরা লাভবান হবেন। বিশেষ করে ব্রি ধান৭১ জাতের গাছ বড় বড় হওয়ায় ভাল খড় পাওয়া যায়। এতেও খড় বিক্রি করতে পারবেন ৪ হাজার টাকার। কৃষকরা এই ধানচাষে আগ্রহী হলে বিঘা প্রতি প্রায় ৫-৭ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষিবিদরা।
রাজশাহীর পবা উপজেলার বামুনশিখর গ্রামে এই ধানের কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকালে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মাঠে কর্মকর্তাগণ ব্রি ধান ৩৯ ও ব্রি ধান৭১ জাতের কর্তনকৃত ধানের তুলনা করে জানান যে, এবারে ব্রি ধান৩৯ প্রতি বিঘাতে হয়েছে সাড়ে ১৩ মণ। আর ব্রি ধান৭১ প্রতি বিঘাতে ফলন পাওয়া যায় ১৯ মণ।
রক্ষণশীল কৃষি ব্যবস্থাপনায় পাটের জমিতে আমন ধানের বীজ বপনের মাধ্যমে রিলে পদ্ধতির চাষাবাদে উদ্বুদ্ধকরণে এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ব্রি-রাজশাহীর মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রপিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রখ্যাত ধান বিজ্ঞানী ও পরিচালক (গবেষণা), ব্রি ড. তমাল লতা আদিত্য।
ব্রি-রাজশাহরি উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্পের প্রধান ইনভেস্টিগেটর ড. হারুন-অর-রশিদের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মনজুরুল হক ও পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মনজুরে মাওলা। বক্তব্য রাখেন কৃষিবিদ সালাউদ্দিন, কৃষক আলী হোসেন ও আলাউদ্দিন। অনুষ্ঠানে অত্র এলাকার প্রায় দু’শো কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।
Share:

No comments:

Post a Comment

আপনি সড়গাছীর সকল কিছু মেনে নিয়েছেন।

সাধারণ কিছু কথা।

সড়গাছী গ্রাম সম্পর্কে যদি কোন মতবাদ/অভিমত থাকে তাহলে ডান পাশে Contact Us এর নিচে আপনার মূল্যবান মতবাদ/অভিমত প্রকাশ করুন।

সড়গাছী গ্রামের পক্ষথেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

Contact Us

Name

Email *

Message *

রক্তের প্রয়োজনে।